Humane Foundation
পুষ্টি ও স্বাস্থ্য

বাঙালীর পাতে ফাইবার: অন্ত্রের স্বাস্থ্যই কি মানসিক শান্তির চাবিকাঠি?

প্রচলিত বাঙালি খাবারের বৈচিত্র্যময় আঁশ যেভাবে আমাদের অন্ত্রের জীবাণুদের সুস্থ রেখে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাত, আধুনিক খাদ্যাভ্যাস সেই সুরক্ষাকবচকেই নষ্ট করে দিচ্ছে।

লিখেছেন অনন্যা ভট্টাচার্য6 মিনিট পঠনকলকাতা, IND
একটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের থালা যাতে ভাত, ডাল এবং বিভিন্ন রঙিন সবজির পদ রয়েছে, যা খাদ্যে ফাইবারের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
Humane Foundation / AI-generated

আপনার মনে আছে কি, আপনার ঠাকুমা বা দিদিমার পাত? সেখানে শুধু ভাত-ডাল-মাছই থাকত না, থাকত ঋতু অনুযায়ী বদলে যাওয়া নানা রকম শাক, ভাজা, চচ্চড়ি, ঘন্ট। পুঁইশাকের সঙ্গে চিংড়ি, সজনে ডাঁটার চচ্চড়ি, কলার মোচার ঘন্ট বা কচুর লতির অপূর্ব পদ—এই বৈচিত্র্যই ছিল বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের রোজকার চিত্র। এই খাবারগুলো শুধু স্বাদে অতুলনীয় ছিল না, এগুলোর গভীরে লুকিয়ে ছিল এক অসাধারণ স্বাস্থ্য-দর্শন, যা আমরা আজ আধুনিকতার চাপে প্রায় ভুলতে বসেছি। আজকের দ্রুতগতির জীবনে, আমাদের প্লেট থেকে সেই বৈচিত্র্যময় শাক-সবজি, ফলমূল এবং গোটা শস্য হারিয়ে যাচ্ছে। তার জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড এবং পরিশোধিত শর্করা। ফলস্বরূপ, আমরা কেবল স্বাদ হারাচ্ছি না, হারাচ্ছি আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসা বিজ্ঞান একটি বিস্ময়কর সত্য উন্মোচন করেছে: আমাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, আমাদের মনের অবস্থা অনেকাংশেই নির্ভর করে আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর। এই সংযোগটিকে বলা হয় ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ বা অন্ত্র-মস্তিষ্ক অক্ষ। আমাদের অন্ত্রে বসবাসকারী লক্ষ কোটি অণুজীব, যা সম্মিলিতভাবে ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ নামে পরিচিত, আমাদের মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন এই অণুজীবদের বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, তখন তার প্রভাব আমাদের মেজাজ, অনুভূতি, এমনকি স্মৃতিশক্তির উপরেও পড়তে পারে। প্রশ্ন হলো, আমাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কি এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে? বাঙালির হারিয়ে যাওয়া খাদ্য ঐতিহ্য কি আমাদের ক্রমবর্ধমান মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগের অন্যতম কারণ হতে পারে?

অন্ত্রের জগৎ: এক বিস্ময়কর বাস্তুতন্ত্র

আমাদের পরিপাকতন্ত্র কেবল খাদ্য হজম করার একটি যন্ত্র নয়, এটি প্রায় একশ ট্রিলিয়ন অণুজীবের এক বিশাল বাসস্থান। এই অণুজীবদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, এবং ছত্রাক। এই মাইক্রোবায়োমকে প্রায়শই একটি ‘বিস্মৃত অঙ্গ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, কারণ এর কাজ আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমে ‘ভালো’ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ‘খারাপ’ ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে বেশি থাকে, যা একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখে। এই ভালো ব্যাকটেরিয়ারা আমাদের জন্য নানা উপকারী কাজ করে, যেমন—ভিটামিন তৈরি করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করা এবং ক্ষতিকারক জীবাণুর বৃদ্ধি রোধ করা। কিন্তু এই উপকারী জীবাণুদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন সঠিক খাবার।

এখানেই আসে ফাইবারের ভূমিকা। ফাইবার বা আঁশ হলো উদ্ভিজ্জ খাবারের সেই অংশ যা আমাদের শরীর হজম করতে পারে না। কিন্তু এটি আমাদের অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের প্রধান খাদ্য। এই ফাইবারকে তারা গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে ফেলে এবং তার ফলস্বরূপ তৈরি হয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ যৌগ, যার মধ্যে প্রধান হলো শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (Short-Chain Fatty Acids বা SCFAs)। এই SCFAs, যেমন বিউটাইরেট, প্রোপিওনেট এবং অ্যাসিটেট, অন্ত্রের কোষকে শক্তি জোগায়, প্রদাহ কমায় এবং অন্ত্রের প্রাচীরকে শক্তিশালী রাখে। এটি ‘লিকি গাট’ সিন্ড্রোম প্রতিরোধ করে, যেখানে ক্ষতিকারক পদার্থ অন্ত্র থেকে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে এবং সারা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

বাঙালির পাত থেকে কেন হারিয়ে যাচ্ছে ফাইবার?

ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারে ফাইবারের উৎস ছিল অফুরন্ত। প্রধান উৎস ছিল নানা ধরনের শাক—লাল শাক, পালং শাক, কলমি শাক, কচু শাক; বিভিন্ন সবজি যেমন—ঝিঙে, পটল, কুমড়ো, বেগুন, উচ্ছে, করলা; এবং ডাল ও গোটা শস্য। এই খাবারগুলো শুধুমাত্র ফাইবার সমৃদ্ধ ছিল না, বরং বিভিন্ন প্রকারের ফাইবার সরবরাহ করত, যা মাইক্রোবায়োমের বৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি ভিন্ন ধরনের ফাইবার ভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। তাই খাবারের বৈচিত্র্য যত বেশি, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্যও তত বেশি হয়, যা একটি স্বাস্থ্যকর মাইক্রোবায়োমের লক্ষণ।

কিন্তু বিগত কয়েক দশকে নগরায়ন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সাথে সাথে এই বৈচিত্র্য দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। কর্মব্যস্ত জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করার অবকাশ কমে গেছে। তার বদলে সহজলভ্য এবং দ্রুত তৈরি করা যায় এমন খাবারের দিকে ঝুঁকেছে মানুষ। সাদা চাল, ময়দার রুটি, নুডলস, এবং প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এখন আমাদের খাদ্যতালিকার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। এই খাবারগুলিতে ফাইবারের পরিমাণ অত্যন্ত কম। এছাড়া, সুপারমার্কেটে সারা বছর একই ধরনের কয়েকটি সবজি (আলু, পেঁয়াজ, টমেটো) পাওয়া যায়, ফলে ঋতুভিত্তিক স্থানীয় সবজি খাওয়ার অভ্যাসও কমে আসছে। ফলে, আমাদের অন্ত্রের জীবাণুরা তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের সংখ্যা এবং বৈচিত্র্য উভয়ই কমিয়ে দিচ্ছে।

আমরা কেবল ক্যালোরির কথা ভাবি, কিন্তু খাবারের গুণমানের কথা ভুলে যাই। একটি পিৎজার স্লাইস এবং এক বাটি পাঁচমিশালি তরকারি ও লাল চালের ভাতের ক্যালোরি সমান হতে পারে, কিন্তু অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর তাদের প্রভাব আকাশ-পাতাল ভিন্ন। আমরা খাদ্যের বৈচিত্র্য হারিয়ে একটি ‘মনোকালচার’ ডায়েটের দিকে এগোচ্ছি, যা আমাদের মাইক্রোবায়োমের জন্য মরুভূমির সমান।

ডঃ মিতালী সেন, জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ

এই পরিবর্তনের একটি সামাজিক দিকও রয়েছে। বিশ্বায়নের প্রভাবে বিদেশি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। পিৎজা, বার্গার বা পাস্তা খাওয়াকে আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যেখানে লাউ-কুমড়োর তরকারিকে ‘কেলে’ বা ‘সেকেলে’ বলে মনে করা হয়। এই মানসিকতার পরিবর্তন আমাদের ঐতিহ্যবাহী পুষ্টিকর খাবার থেকে আমাদের আরও দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের সংযোগ: বিজ্ঞান কী বলছে?

অন্ত্র এবং মস্তিষ্কের মধ্যে যোগাযোগ একটি দ্বিমুখী রাস্তা। মস্তিষ্ক যেমন অন্ত্রের কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে (যেমন, উদ্বেগের সময় পেটের সমস্যা), তেমনই অন্ত্রও মস্তিষ্কের কার্যকলাপ এবং আমাদের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই যোগাযোগটি মূলত ভেগাস নার্ভ (vagus nerve), হরমোন এবং নিউরোট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের শরীরের প্রায় ৯০% সেরোটোনিন (যা ‘সুখী হরমোন’ নামে পরিচিত এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ) অন্ত্রের কোষ দ্বারা উৎপাদিত হয়, এবং এর উৎপাদন অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়।

যখন খাদ্যাভ্যাসে ফাইবারের অভাব হয়, তখন অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায় এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থাকে ‘ডিসবায়োসিস’ (dysbiosis) বলা হয়। ডিসবায়োসিস অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং অন্ত্রের প্রাচীরকে দুর্বল করে দেয়। ফলস্বরূপ, ক্ষতিকারক পদার্থ রক্তে মিশে গিয়ে সারা শরীরে, এমনকি মস্তিষ্কেও মৃদু প্রদাহ (neuroinflammation) সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক অবসাদ এবং উদ্বেগের মতো রোগের সঙ্গে এই ধরনের প্রদাহের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বিউটাইরেটের মতো SCFAs তৈরি করে, যা রক্ত-মস্তিষ্কের বাধা (blood-brain barrier) অতিক্রম করে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। সেখানে এটি মস্তিষ্কের কোষকে রক্ষা করে, প্রদাহ কমায় এবং ব্রেন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (BDNF) নামক একটি প্রোটিনের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। BDNF নতুন নিউরোন তৈরি করতে এবং বিদ্যমান নিউরোনগুলিকে রক্ষা করতে সহায়তা করে, যা স্মৃতিশক্তি এবং শেখার জন্য অপরিহার্য। কম ফাইবারযুক্ত খাবার মানে কম SCFA উৎপাদন, যা মস্তিষ্কের সুরক্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

খাবারউপাদানআনুমানিক ফাইবার (গ্রাম)
ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্নভোজলাল চালের ভাত, মুগ ডাল, পাঁচমিশালি তরকারি, শাক ভাজা১৫ - ২০
আধুনিক মধ্যাহ্নভোজসাদা চালের ভাত, চিকেন কারি (আলু দিয়ে), ভাজাভুজি৪ - ৬
ঐতিহ্যবাহী জলখাবারচিঁড়ে ভাজা (সবজি সহ) বা ছোলা-মুড়ি মাখা৬ - ৮
আধুনিক জলখাবারপ্যাকেটের চিপস বা বিস্কুট১ - ২
ঐতিহ্যবাহী পানীয়বেলের শরবত বা দইয়ের ঘোল৩ - ৫
আধুনিক পানীয়কার্বোনেটেড সফট ড্রিঙ্ক
ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক বাঙালি খাবারের ফাইবারের তুলনা (একটি আনুমানিক চিত্র)

ফাইবার-সমৃদ্ধ জীবনে ফেরার উপায়

সুসংবাদ হলো, এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব এবং এর জন্য খুব বেশি জটিলতার প্রয়োজন নেই। আমাদের রান্নাঘরে এবং খাদ্যতালিকায় কিছু সাধারণ পরিবর্তন এনেই আমরা আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে পারি এবং তার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতার পথে এক ধাপ এগোতে পারি। এটি কোনো কঠোর ডায়েট প্ল্যান নয়, বরং একটি জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যা আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যেই নিহিত।

প্রথমত, পাতে বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনুন। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ রকম রঙের সবজি ও ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। স্থানীয় বাজারে যান এবং ঋতুভিত্তিক শাক-সবজি কিনুন যা সুপারমার্কেটে সহজে মেলে না। ঢেঁড়স, পটল, লাউ, চালকুমড়ো, উচ্ছে, বেগুন, গাজর, বিনস—আপনার প্লেটকে একটি রঙিন ক্যানভাসে পরিণত করুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিরামিষ খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেখানে প্রাধান্য থাকবে সবজি ও ডালের উপর।

দ্বিতীয়ত, শস্য বাছুন ভেবেচিন্তে। সাদা চালের বদলে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বা ব্রাউন রাইস ব্যবহার করুন। ময়দার বদলে আটার রুটি খান। আপনার খাদ্যতালিকায় ওটস, ডালিয়া, বাজরা, জোয়ারের মতো গোটা শস্য যোগ করুন। এগুলি কেবল ফাইবারই সরবরাহ করে না, সঙ্গে দেয় নানা প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন।

তৃতীয়ত, ডাল ও বীজকে অবহেলা করবেন না। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মসুর, মুগ, অড়হর, ছোলার ডালের মতো বিভিন্ন ধরনের ডাল রাখুন। এগুলি প্রোটিন এবং ফাইবারের চমৎকার উৎস। এছাড়াও, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্সসিড (তিসি) বা কুমড়োর বীজ আপনার সকালের জলখাবারে বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। জলখাবার হিসেবে ভাজাভুজি বা বিস্কুটের বদলে বেছে নিন এক মুঠো বাদাম বা মরসুমি ফল।

শেষত, প্রোবায়োটিকের প্রাকৃতিক উৎসগুলিকে ভুলে যাবেন না। ঘরে পাতা টক দই অন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া, পান্তা ভাতের মতো ঐতিহ্যবাহী ফার্মান্টেড বা গেঁজিয়ে যাওয়া খাবারও প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস। এই খাবারগুলি অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।

দৈনিক ফাইবার গ্রহণের প্রধান উৎস (শহুরে পশ্চিমবঙ্গ, ২০২২)

আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া কোনো নতুন ফ্যাশন নয়, বরং এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। তাদের খাদ্যতালিকায় যে বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছিল, তা কোনো পুষ্টিবিদের প্রেসক্রিপশনের চেয়ে কম ছিল না। আমাদের প্লেটে আবার সেই বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমরা কেবল একটি স্বাস্থ্যকর શરીરই পাব না, পেতে পারি এক শান্ত ও সুস্থ মন। আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হয়তো আমাদের রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে—তাকে শুধু নতুন করে আবিষ্কার করার অপেক্ষা।

Enjoyed this? Save or share.