Skip to main content
Humane Foundation
▾
জলবায়ু

পরিবেশ দূষণ রচনা: ২০৩০ সালের মধ্যে মাংসের জমির ব্যবহার কীভাবে বদলে দেবে বিশ্ব

পরিবেশ দূষণ রচনার এই ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাংস উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ২০৩০ সালের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ কমে আসতে পারে, যদি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়।

লিখেছেন অনিরুদ্ধ চৌধুরী4 মিনিট পঠনঢাকা, বাংলাদেশ
পরিবেশ দূষণ রচনার প্রেক্ষাপটে মাংসের জমির ব্যবহার: আমাজনে গবাদি পশুর চারণভূমির জন্য বন উজাড়ের বাস্তব চিত্র
Humane Foundation / AI-generated

পরিবেশ দূষণ রচনার এই ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী মাংস উৎপাদনের জন্য বর্তমানে যে পরিমাণ জমি ব্যবহার করা হয় (প্রায় ৪ বিলিয়ন হেক্টর, যা পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৩০%), তা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫-৩৫% কমে আসতে পারে, যদি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, নিয়ন্ত্রক নীতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বর্তমান গতিতে অব্যাহত থাকে। এই পরিবর্তন মূলত উদ্ভিদ-ভিত্তিক মাংসের বিকল্প, নির্ভুল গাঁজন ও কোষ-ভিত্তিক কৃষির প্রসারের মাধ্যমে ঘটবে।

মাংসের জমির ব্যবহার কেন পরিবেশ দূষণের মূল চালক?

পরিবেশ দূষণ রচনার আলোচনায় মাংসের জমির ব্যবহার একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। বর্তমানে বিশ্বের মোট কৃষিজমির ৭৭% মাংস ও দুগ্ধ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এটি বিশ্বের ক্যালোরির মাত্র ১৮% ও প্রোটিনের ৩৭% সরবরাহ করে (Our World in Data, 2024)। এই অদক্ষতা বন উজাড়, মিথেন নির্গমন ও জৈববৈচিত্র্য ধ্বংসের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, আমাজন রেইনফরেস্টের ৮০% বন উজাড় গবাদি পশুর চারণভূমি তৈরির জন্য ঘটে (World Resources Institute, 2023)।

“গবাদি পশুর চারণভূমির জন্য বন উজাড় কেবল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনই বাড়ায় না, এটি স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায়ের জীবনধারা ও জলবায়ু স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলে।”

— ড. মেরি ওয়াটকিন্স, জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞ, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন

২০৩০ সালের মধ্যে জমির ব্যবহার কতটা কমতে পারে?

বিভিন্ন মডেলিং গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, ২০৩০ সালের মধ্যে মাংসের জমির ব্যবহার ২৫-৩৫% হ্রাস পেতে পারে, যদি নিম্নলিখিত প্রবণতা বজায় থাকে: উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি, সরকারি নীতির মাধ্যমে মাংসের কর আরোপ, এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিকল্প প্রোটিনের দাম কমানো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'ফার্ম টু ফর্ক' কৌশল ২০৩০ সালের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহার ৫০% কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা পরোক্ষভাবে জমির ব্যবহার হ্রাস করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মাংসের চাহিদা এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে উদ্ভিদ-ভিত্তিক বিকল্পের প্রসার এই অঞ্চলেও জমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

দৃশ্যপটজমির ব্যবহার হ্রাস (%)প্রধান চালকসম্ভাবনা
উচ্চ হ্রাস৩৫%উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যের ব্যাপক গ্রহণ + নীতি সহায়তামাঝারি (৪০%)
মধ্যম হ্রাস২৫%বিকল্প প্রোটিনের বাজার সম্প্রসারণউচ্চ (৫৫%)
নিম্ন হ্রাস১০%প্রযুক্তিগত উন্নতি কিন্তু ভোক্তা আগ্রহ স্থিরনিম্ন (৫%)
কোনো হ্রাস নয়০%বর্তমান প্রবণতা অব্যাহতঅতি নিম্ন (<১%)
মাংসের জমির ব্যবহার হ্রাসের সম্ভাবনা: ২০৩০ সালের পূর্বাভাস (সূত্র: FAO, 2024; IPCC, 2022)

মাংসের জমির ব্যবহারের পূর্বাভাসিত পরিবর্তন (২০২০-২০৩০)

সূত্র: FAO, 2024; Our World in Data, 2024

কীভাবে উদ্ভিদ-ভিত্তিক বিকল্প জমির ব্যবহার কমাতে পারে?

উদ্ভিদ-ভিত্তিক মাংসের বিকল্প (যেমন বেয়ন্ড মিট, ইমপসিবল ফুডস) উৎপাদনে গরুর মাংসের তুলনায় ৯৩% কম জমি প্রয়োজন (University of Michigan, 2019)। নির্ভুল গাঁজন প্রযুক্তি, যা মাইক্রোবিয়াল প্রক্রিয়ায় দুধের প্রোটিন ও ডিমের সাদা অংশ তৈরি করে, জমির ব্যবহার আরও ৮০% কমাতে পারে (Good Food Institute, 2023)। কোষ-ভিত্তিক কৃষি, যদিও এখনও ব্যয়বহুল, ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হতে পারে এবং জমির ব্যবহারে বিপ্লব ঘটাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সিঙ্গাপুর ইতিমধ্যে কোষ-ভিত্তিক মুরগির মাংস অনুমোদন করেছে, যা ভবিষ্যতে জমির চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে।

কোন অঞ্চলে জমির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি পরিবর্তিত হবে?

দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা, যেখানে গবাদি পশুর চারণভূমি সবচেয়ে বেশি, সেখানে জমির ব্যবহারের পরিবর্তন সবচেয়ে নাটকীয় হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে মাংসের ব্যবহার ১৫% কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা জমির ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটাবে। অন্যদিকে, ভারত ও বাংলাদেশে মাংসের চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও, উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যের ঐতিহ্যের কারণে জমির ব্যবহারের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। আফ্রিকায়, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে জমির ব্যবহারের পরিবর্তন ধীর গতিতে হবে, কারণ পশুপালন এখনও জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরিবেশ দূষণ কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ কী ভূমিকা রাখতে পারে?

পরিবেশ দূষণ রচনার অংশ হিসেবে নীতিগত হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে ডেনমার্ক বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কৃষি নির্গমনের উপর কার্বন কর আরোপ করে, যা মাংসের জমির ব্যবহার হ্রাসে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'ফার্ম টু ফর্ক' কৌশল ও নিউজিল্যান্ডের কৃষি নির্গমন মূল্য নির্ধারণ পরিকল্পনা জমির ব্যবহারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে এই নীতিগুলি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেখানে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাহিদা প্রাধান্য পায়। আইপিসিসি-র ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংসের ব্যবহার ৫০% কমানো গেলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২৯% হ্রাস পেতে পারে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

পরিবেশ দূষণ রচনায় মাংসের জমির ব্যবহার কেন গুরুত্বপূর্ণ?+

মাংসের জমির ব্যবহার পরিবেশ দূষণের একটি মূল কারণ, কারণ এটি বন উজাড়, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও জৈববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য দায়ী। বিশ্বের মোট কৃষিজমির ৭৭% মাংস উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এটি ক্যালোরির একটি ছোট অংশ সরবরাহ করে, যা অদক্ষতা ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিচায়ক।

২০৩০ সালের মধ্যে মাংসের জমির ব্যবহার কতটা কমবে?+

বিভিন্ন মডেলিং গবেষণা অনুসারে, মাংসের জমির ব্যবহার ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫-৩৫% কমতে পারে, যদি উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যের গ্রহণ, নীতি সহায়তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বর্তমান গতিতে অব্যাহত থাকে। তবে, এই হ্রাস অঞ্চলভেদে ভিন্ন হবে।

উদ্ভিদ-ভিত্তিক মাংস কীভাবে জমির ব্যবহার কমায়?+

উদ্ভিদ-ভিত্তিক মাংস উৎপাদনে গরুর মাংসের তুলনায় ৯৩% কম জমি প্রয়োজন, কারণ এটি সরাসরি উদ্ভিদ থেকে প্রোটিন আহরণ করে, পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় চারণভূমি ও পশুখাদ্যের জমির প্রয়োজন হয় না। এটি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

কোন দেশে মাংসের জমির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি?+

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় মাংসের জমির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি, কারণ এখানে গবাদি পশুর চারণভূমি বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে আছে। আমাজন রেইনফরেস্টের বন উজাড়ের একটি বড় অংশ এই দুই দেশে গবাদি পশুর চারণভূমি তৈরির জন্য ঘটে।

পরিবেশ দূষণ কমাতে মাংসের জমির ব্যবহার কমানোর বিকল্প কী?+

উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ, নির্ভুল গাঁজন ও কোষ-ভিত্তিক কৃষির মতো প্রযুক্তির ব্যবহার, এবং মাংসের উপর কর আরোপের মতো নীতিগত পদক্ষেপ জমির ব্যবহার কমাতে কার্যকর। এই সমাধানগুলি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনও হ্রাস করে।

Enjoyed this? Save or share.

জলবায়ু
পরিবেশ দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের ধানক্ষেতের উপর সূর্যোদয়ের দৃশ্য
জলবায়ু

পরিবেশ দূষণ: কোপ২৯-এর পর খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের গভীর তদন্ত ২০২৫

কোপ২৯-এ খাদ্য ও কৃষি বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশের চাল সরবরাহ শৃঙ্খলে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করছে এই তদন্ত।

4 মিনিট পঠন

গ্রিন হাইড্রোজেন প্ল্যান্ট ও পোল্ট্রি ফার্মের দৃশ্য, যা খাদ্য ব্যবস্থায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কমাতে পারে
জলবায়ু

৫টি মিথ ভাঙল: গ্রিন হাইড্রোজেন ও খাদ্য ব্যবস্থায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ২০২৫

গ্রিন হাইড্রোজেন এবং খাদ্য ব্যবস্থার সংযোগ কীভাবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তা নিয়ে ৫টি প্রচলিত মিথ ভাঙা হলো।

4 মিনিট পঠন

জলবায়ু পরিবর্তন ও মধ্যপ্রাচ্যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রভাব তুলে ধরা একটি বিভক্ত ছবি
জলবায়ু

জলবায়ু পরিবর্তন বনাম খাদ্যাভ্যাস: মধ্যপ্রাচ্যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রভাব ২০২৫

মধ্যপ্রাচ্যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বাড়াচ্ছে, তার একটি গভীর তুলনামূলক বিশ্লেষণ।

4 মিনিট পঠন

বিশেষ লেখা